ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কৃষিঋণ মওকুফে স্বস্তিতে ১৪ লাখ কৃষক, পরিশোধ ১,৩৫২ কোটি টাকা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
কৃষিঋণ মওকুফে স্বস্তিতে ১৪ লাখ কৃষক, পরিশোধ ১,৩৫২ কোটি টাকা ছবির ক্যাপশন: সারাদেশে ১৪ রাখ কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফ
ad728


কৃষিকথা ডেস্ক:

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬: ঋণের বোঝা থেকে স্বস্তি পেয়েছেন দেশের ১৪ লাখেরও বেশি প্রান্তিক কৃষক। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফের আওতায় মোট ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষককে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকার পরিশোধ করেছে ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে নতুন করে ব্যাংকঋণ পেতে সমস্যায় থাকা কৃষকদের জন্য এ উদ্যোগ আর্থিক স্বস্তি নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন করে ঋণপ্রবাহ বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির সবচেয়ে বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন কৃষকের ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা মওকুফ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৭ লাখ ২৪ হাজার ৮০৩ জন কৃষক এ সুবিধা পেয়েছেন। তাঁদের জন্য মওকুফ করা হয়েছে প্রায় ৭৪৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের বাজার পরিস্থিতির কারণে অনেক কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েন। এর মধ্যে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে খেলাপি হলে নতুন করে ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে যায়।

বাসসের প্রতিবেদনে যশোরের কয়েকজন কৃষকের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে, ঋণ মওকুফের ফলে তাঁদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা কমেছে। কেউ কেউ ঋণ পরিশোধের জন্য বাড়ির গাছ কিংবা গবাদিপশু বিক্রির কথাও ভাবছিলেন। ঋণ মওকুফ হওয়ায় তাঁদের সেই চাপ থেকে মুক্তি মিলেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগের ফলে প্রান্তিক কৃষকদের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসার সুযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি উচ্চ সুদে মহাজনি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও কমতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এটি প্রায় ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।

বাসসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো কৃষি ও পল্লী খাতে ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এর আগের অর্থবছরে বিতরণের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ৩২৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

কৃষি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়লে উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বাসসকে বলেছেন, সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বড় আর্থিক স্বস্তি। তবে শুধু ঋণ মওকুফের মাধ্যমে কৃষকদের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

কৃষকদের টেকসইভাবে স্বাবলম্বী করতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সার-বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং উপযুক্ত ভর্তুকি দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

কৃষকের আর্থিক স্বস্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সুফলে রূপ দিতে হলে সহজ শর্তে নতুন ঋণ, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : হাতিয়ার কথা

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্মরণসভায় শ্রদ্ধায় স্মরণ সাংবাদিক এম. দিলদার উদ্দিনকে

স্মরণসভায় শ্রদ্ধায় স্মরণ সাংবাদিক এম. দিলদার উদ্দিনকে