হাতিয়া নৌ-রুটে প্রথমবার ফেরী ভ্রমণে এসে ভোগান্তি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন যাত্রী ইমতিয়াজ হায়দার নিশান। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটগামী ফেরীতে ওঠার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী ইসতিয়াজ হায়দার নিশানের অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে চেয়ারম্যান ঘাটে পৌঁছানোর পর ঘাট সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মাধ্যমে তাকে জানানো হয় একটি ধানমাড়াই মেশিন বহনকারী গাড়ির ফেরী ভাড়া ৪০০ টাকা এবং ঘাট টিকিট ১২০ টাকা। পরদিন সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ঘাট টিকিট সংগ্রহের পর ফেরীতে গাড়ি ওঠানোর সময় টিকিট কাউন্টারে তার কাছে ৯০০ টাকা ভাড়া দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে কারণ জানতে চাইলে কাউন্টার কর্তৃপক্ষ গাড়িটিকে ‘প্রাইভেট কার’ শ্রেণিভুক্ত বলে দাবি করেন। তবে সরকারি কোনো নীতিমালা বা ডকুমেন্ট দেখাতে বলা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তা প্রদর্শন করেননি বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে কাউন্টারের এক ব্যক্তি যাত্রীকে আলাদাভাবে ডেকে ‘সমঝোতা’র প্রস্তাব দেন। ৬৫০ টাকার বিনিময়ে টিকিট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং কাউকে কিছু না বলার অনুরোধ করা হয়। পরে টাকা প্রদান করলে তাকে একটি টিকিট দেওয়া হয়।
কিন্তু টিকিটে উল্লেখিত মূল্য ছিল মাত্র ৪৫০ টাকা, যা দেখে প্রতারণা ও অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। টিকিটে দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান লেখা থাকলেও বাস্তবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ফেরী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার সময় ফেরী মহানন্দা সকাল ৭টা ২১ মিনিটে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এ সময় তিনি ফেরীর দ্বিতীয় তলার ক্যান্টিনে অবস্থান করছিলেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নৌ-রুটে টিকিট বাণিজ্য ও অনিয়ম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইসতিয়াজ হায়দার নিশান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নওগাঁ থেকে চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে হাইওয়ে পুলিশের হয়রানির বিষয়েও পরবর্তীতে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
হাতিয়ার কথা