ঢাকা | বঙ্গাব্দ

উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারে সোনাদিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়জুল বারী তারীফ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৫ নভেম্বর, ২০২৬
উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারে সোনাদিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়জুল বারী তারীফ ছবির ক্যাপশন: ফয়জুল বারী তারীফ, চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৮নং সোনাদিয়া ইউনিয়ন
ad728


নিজস্ব প্রতিবেদক

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মাওলানা মুহাম্মদ ফয়জুল বারী তারীফ। শিক্ষকতা, দ্বীনি শিক্ষা, ধর্মীয় নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এলাকায় পরিচিতি গড়ে তুলেছেন তিনি। উন্নয়ন, সুশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন।

একটি ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম নেওয়া তারীফের বাবা মাওলানা জালাল আহমদ চরচেঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ।  সততা, দক্ষতা এবং ন্যায় বিচারের জন্য  হাতিয়া উপজেলায় তিনি সুপরিচিত ব্যক্তি। তাছাড়া ২০০৮ সালে সোনাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে তিনি ২য় হন। যা ইউনিয়ন ব্যাপী তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রমান করে। দাদা আলী মিয়া গোয়াল ছিলেন হাতিয়া টাউনের অন্যতম ব্যবসায়ী।
মাওঃ তারীফের নানা মাওলানা শাহ ফয়েজুর রহমান ছিলেন হাতিয়ার বিখ্যাত দায়েরা পরিবারের সন্তান , প্রসিদ্ধ আলেমে দ্বীন এবং একই মাদ্রাসার সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী এড. শাহ মাহফুজুল হক তারীফের আপন মামা। মাত্র ছয় বছর বয়সেই তাঁর মা মরহুমা ফাতেহা খাতুন রাহেনা ইন্তেকাল করেন। অদম্য উচ্ছাসার কারনে মাতৃবিয়োগ তাঁর চলার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারেনি। 

শিক্ষাজীবনে সাধারণ ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়েছেন তারীফ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করার পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হাদিস বিষয়ে কামিল পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন।

২০১২ সালে চরচেঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আরবি প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। বর্তমানে একই প্রতিষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন এবং ধর্মীয় আলোচনা ও তাফসির মাহফিলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ধর্মীয় অঙ্গনেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তারীফ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চরচেঙ্গা মাদ্রাসা শাখার সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হন। পরবর্তী সময়ে দলটির সোনাদিয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি হাতিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি।

সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য সম্পৃক্ততা। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘দারুন্নাজাত ফাউন্ডেশন’। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসুস্থ রোগীদের রক্তের ব্যবস্থা, ঠোঁটকাটা শিশুদের চিকিৎসাসহায়তা, দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, অসচ্ছল পরিবারের জন্য কোরবানির আয়োজন এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতেও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন দারুন্নাজাত তা'লীমুল কুরআন মাদ্রাসা এবং ২০১৮ সালে বায়তুস সামাদ মসজিদ।

সংগঠক হিসেবেও রয়েছে তাঁর পরিচিতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ডিবেটিং ক্লাবের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন তিনি। আলিয়া ও কওমি ধারার আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত বুড়ির চর ইউনিয়ন ইমাম-খতিব পরিষদের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম এবং সংগঠনটির প্রথম সেক্রেটারি ছিলেন। ঢাকাস্থ হাতিয়া ছাত্রকল্যাণ পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও পরবর্তী সময়ে সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া চরচেঙ্গা মাদ্রাসা সাবেক ছাত্র পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দীর্ঘদিন সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক। বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীনের নোয়াখালী জেলা কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের নোয়াখালী জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।

সাগরিয়া বাজার জামে মসজিদ, মনুমিয়াজী জামে মসজিদ, আলহাজ আব্দুল গণী জামে মসজিদ ও হাজী জিয়াউল হক জামে মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পাশাপাশি হাতিয়া ব্লাড ফাউন্ডেশন, হাতিয়া দ্বীপ সমিতি, হাতিয়া উন্নয়ন ফোরাম ও সোনাদিয়া উন্নয়ন ফোরামসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

রাজনৈতিক জীবনে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর। তাঁর অনুসারীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্থানীয় অসংগতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালনে বাধা, শিক্ষকতার চাকরিচ্যুতির হুমকি , একাধিক মামলা ও পুলিশি হয়রানির কারণে তিনি আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। 

শিক্ষকতা, ধর্মীয় নেতৃত্ব, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সোনাদিয়া ইউনিয়নের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান মাওলানা মুহাম্মদ ফয়জুল বারী তারীফ। তাঁর সমর্থকদের প্রত্যাশা, তিনি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নে সুশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

সোনাদিয়াবাসীর কাছে তাঁর প্রত্যাশা, আসন্ন নির্বাচনে সমর্থন ও দোয়ার মাধ্যমে তাঁকে জনগণের সেবা করার সুযোগ দেওয়া। একটি উন্নত, দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সোনাদিয়া গড়ার প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে যেতে চান তিনি।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : হাতিয়ার কথা

কমেন্ট বক্স