ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ফেরি পরিষেবা এবং হাতিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন: একটি সম্ভাবনার রূপরেখা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ফেরি পরিষেবা এবং হাতিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন: একটি সম্ভাবনার রূপরেখা ছবির ক্যাপশন: ফেরি মহানন্দা
ad728

হাতিয়া দ্বীপের সাথে সারাদেশের সরাসরি ও কার্যকর সংযোগ স্থাপনে ফেরি পরিষেবা একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এই সংযোগ কেবল ভৌগোলিক দূরত্বই কমাবে না, বরং অঞ্চলটির অর্থনৈতিক জীবনচক্রে গতিশীলতা এনে দেবে।

উন্নত ফেরি সুবিধা হাতিয়ার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথকে প্রশস্ত করবে, যা পরোক্ষে জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও জিডিপি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সংযোগের ফলে হাতিয়ার উৎপাদিত কৃষিপণ্য, মৎস্য ও পশুসম্পদ দেশের বৃহত্তর বাজারে সহজে ও ন্যায্য মূল্যে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে। একইসাথে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নিত্যপ্রয়োজনীয় ও শিল্পজাত পণ্য হাতিয়ার বাজারে সুলভমূল্যে ও সহজলভ্য হয়ে উঠবে। এতে করে স্থানীয় উৎপাদকরা তাদের পণ্যের সঠিক দাম পাবেন, ভোক্তারা পাবেন পছন্দের পণ্য কিনতে সুযোগ, আর সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক লেনদেনের গতি বাড়বে।
একটি টেকসই ও কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) গড়ে তোলা এই প্রক্রিয়ার মেরুদণ্ড। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি, যাতে হাতিয়ার পণ্য জাতীয় বাজারে এবং জাতীয় পণ্য হাতিয়ার বাজারে অবিচ্ছিন্নভাবে প্রবেশ করতে পারে।
এজন্য প্রয়োজন অঞ্চলটিতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যা হাতিয়াকে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ঢাকার সাথে সরাসরি সংযুক্ত করবে।

যাত্রীবাহী গাড়ী সার্ভিস হাতিয়া থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালীতে চালু করা এবং বিনিয়োগ করা জরুরি।
বাণিজ্যিক সুযোগগুলো কেবল ঘাটকেন্দ্রিক না রেখে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। কৃষি-ভিত্তিক শিল্প (এগ্রো ইন্ডাস্ট্রি), মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ, ভেষজ উদ্ভিদ শিল্প, পানি শিল্প, পোল্ট্রি, পশুপালন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে।
বিশেষ করে, নদী ও সমুদ্রের উপস্থিতি একুয়াকালচার ও মৎস্য চাষে বিপুল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এসব শিল্পের বিকাশে ছোট, মাঝারি ও বড় সব ধরনের বিনিয়োগই কাঙ্ক্ষিত।
একটি শক্তিশালী শিল্পখাত স্থানীয় জীবনমানের উন্নতি ঘটাবে, কর্মসংস্থান তৈরি করবে, সামাজিক অস্থিরতা হ্রাস করবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর মাধ্যমে ফেরি পরিষেবার প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহারও টেকসই হবে।
তবে এসবের জন্য প্রয়োজন মৌলিক অবকাঠামোর সুরক্ষা ও উন্নয়ন। দ্বি-লেন বিশিষ্ট রাস্তা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট, নদীভাঙন রোধকারী বাঁধ এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা শিল্পায়নের ভিত্তি তৈরি করবে। হাতিয়ায় নদীবন্দরের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সুলভ শ্রমশক্তির উপর ভিত্তি করে গার্মেন্টস শিল্প গড়ে তোলাও সম্ভব।
সবশেষে, এই উন্নয়ন যেন টেকসই ও সর্বাঙ্গীণ হয়, সেজন্য প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী ও সুসংহত পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নই এই অঞ্চলের অর্থনীতির চাবিকাঠি হয়ে উঠবে, যা হাতিয়াকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রে একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

লেখক: রিপাজ উদ্দিন
ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল অ্যানালিটিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড সার্ভিস (আইএনএআরএস)


নিউজটি পোস্ট করেছেন : হাতিয়ার কথা

কমেন্ট বক্স
হাতিয়ার ডালচরে সুখচর উন্নয়ন ফোরামের শীতবস্ত্র বিতরণ

হাতিয়ার ডালচরে সুখচর উন্নয়ন ফোরামের শীতবস্ত্র বিতরণ