ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নৌবাহিনীর ১০ লাখ টাকার অনুদান, মাঠ ভরাটেই শেষ, হাতিয়া ডিগ্রি কলেজে হয়নি শহীদ মিনার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট, ২০২৬
নৌবাহিনীর ১০ লাখ টাকার অনুদান, মাঠ ভরাটেই শেষ, হাতিয়া ডিগ্রি কলেজে হয়নি শহীদ মিনার ছবির ক্যাপশন: হাতিয়া ডিগ্রি কলেজ
ad728

স্টাফ রিপোর্টার
নোয়াখালীর হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের উন্নয়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দেওয়া ১০ লাখ টাকার অনুদানের পুরো অর্থ মাঠ ভরাটের কাজে ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ। ফলে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য কোনো অর্থ অবশিষ্ট না থাকায় এখনো নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি শহীদ মিনার।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর নৌবাহিনী প্রধান হাতিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে কলেজের উন্নয়নের জন্য নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই অনুদানের একটি অংশ শহীদ মিনার নির্মাণ এবং অপর অংশ কলেজ মাঠ ভরাটের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল।
তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শহীদ মিনার নির্মাণ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ ও ২০২৫ সাল পেরিয়ে ২০২৬ সালও শেষের দিকে। অথচ শহীদ মিনার নির্মাণের অগ্রগতি কিংবা বরাদ্দকৃত অর্থের বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাচ্ছেন না।
শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ বা অপপ্রচার করতে চান না। বরং বিষয়টির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ চান। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যাও দাবি করেছেন তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, নৌবাহিনী থেকে পাওয়া ১০ লাখ টাকা ব্যবহারের জন্য একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির মাধ্যমেই অনুদানের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
অধ্যক্ষের ভাষ্য, ‘নৌবাহিনী থেকে যে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল, মাঠ ভরাট করতে গিয়েই সেই পুরো বাজেট শেষ হয়ে গেছে। বলতে গেলে, মাঠ ভরাটের কাজটাও আমরা শতভাগ শেষ করতে পারিনি—ফান্ডের অভাবে কাজ অসমাপ্ত রাখতে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কাজের জন্য আমাদের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। অনুদানের পুরো বিষয়টি কমিটিই পরিচালনা করেছে। ফান্ডের কোনো টাকা অবশিষ্ট না থাকায় এবং বাজেট ঘাটতি থাকায় এই মুহূর্তে শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। শহীদ মিনার করার মতো কোনো বাজেট বা এক পয়সাও অবশিষ্ট নেই।’
এদিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, শহীদ মিনার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন। এটি ভাষা আন্দোলন, ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগ এবং বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রতীক। তাই অর্থের সংকট থাকলেও নতুনভাবে উদ্যোগ নিয়ে কলেজে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণ করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীরা উপজেলা প্রশাসন, কলেজ কর্তৃপক্ষ, বর্তমান পরিচালনা কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুদানের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন এবং শহীদ মিনার নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : হাতিয়ার কথা

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ