নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। যুগের পর যুগ পার হয়ে গেলেও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার ছোঁয়া পৌঁছায়নি এই অঞ্চলে। শিক্ষার্থী থেকে কৃষক, শ্রমজীবী থেকে গৃহিণী—প্রতিদিনই সবাইকে এই সাঁকো পার হতে হয় মৃত্যু-ঝুঁকি মাথায় নিয়ে।
প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এই সাঁকো দিয়ে স্কুল–কলেজ ও মাদ্রাসায় যায়। অনেকেই প্রায়ই পিছলে পড়ে আহত হয়, কেউ গুরুতর শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়। আরও বড় সমস্যা দেখা দেয় জরুরি চিকিৎসার সময়—কারণ এখানে অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার সুযোগ নেই। রোগীকে কাঁধে তুলে পথ পার করানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
বর্ষা এলেই দুর্দশা ভয়াবহ রূপ নেয়। সাঁকোটি তখন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। মানুষকে কোমর–সমান পানিতে নেমে নৌকায় ভর করে যাতায়াত করতে হয়। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জীবন হয়ে ওঠে আরও দুর্বিষহ।
এ অঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সাংস্কৃতিক সুযোগ–সুবিধা ও মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। অথচ প্রতিটি নির্বাচনে এই সাঁকোই হয়ে ওঠে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রধান হাতিয়ার। প্রার্থীরা বলেন—“পাকা সেতু হবে, দুর্ভোগ শেষ হবে”—কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই প্রতিশ্রুতি হারিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, তারা বিনা কারণে সাহায্য চান না—তারা শুধু চান মানুষের মতো নিরাপদে চলাচলের মৌলিক অধিকার। তাদের একটাই দাবি, এই নড়বড়ে সাঁকোর বদলে একটি স্থায়ী, নিরাপদ পাকা সেতু নির্মাণ করা হোক।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসন, হাতিয়া উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের প্রতি তারা দাবি জানিয়েছেন—একবার এসে নিজের চোখে দেখুন এই মানুষের কষ্ট। একটি সেতু শুধু ইট–পাথরের কাঠামো নয়; এটি হবে উন্নয়নের প্রতীক, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং একটি মানবিক ভবিষ্যতের পথ।
Hatiyar Kotha