মোঃ এনায়েত হোসেন | নোয়াখালী ব্যুরো প্রতিনিধি
নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম মাইজদীতে মাদকবিরোধী প্রতিবাদ, সভা-সমাবেশ ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় তিনজনকে মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইয়াছিনুর রহমান (২২) বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে পশ্চিম মাইজদী এলাকার কামাল (৫০), আবু কালাম (৫০), লিটন (৪২), মনু (৫০), রায়হান (৩২), নেয়ামত উল্যা (৪০), রাজু (৪০), রাসেল (২৫), অভি (২২) ও ছুট্টু (৪৫)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর জেলখানা মোড় এলাকায় জনৈক বাবুর দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ইয়াছিনুর রহমান অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় মাদকবিরোধী প্রতিবাদ, সভা-সমাবেশ এবং প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে হামলার সুযোগ খুঁজছিলেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার দিন ইয়াছিনুর তার বাবার সঙ্গে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা ছেনি, খুর, কিরিচ, লোহার রড ও স্টিলের ম্যাগলাইটসহ তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়া ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করার বিষয় নিয়ে তাদের গালমন্দ করা হয়। প্রতিবাদ করলে ইয়াছিনুর ও তার বাবার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় ইয়াছিনুরের মাথা, ঘাড়, বুক-পিঠ, কোমর ও ডান পায়ে নীলা-ফুলা ও বেদনাদায়ক জখম এবং তার বাবের মাথা, মুখমণ্ডল, ঘাড় ও ডান কনুইয়ে আঘাত লাগে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বিএনপি নেতা হোসেন এগিয়ে এসে উদ্ধারের চেষ্টা করলে কামাল ছেনি দিয়ে তার মাথায় কোপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার বাম চোখের ওপরে কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়। পরে আবু কালাম খুর দিয়ে তার পিঠে আঘাত এবং লিটন কিল-ঘুষি মারেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এতে তার বাম চোখে রক্ত জমাট জখম হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড ও এ ঘটনায় বিচার চাইলে প্রাণে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ইয়াছিনুর রহমান সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
হাতিয়ার কথা