নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় লঞ্চে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা শহরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাতিয়া থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ এমভি ফারহান–এর একটি কেবিনে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক সাকিব উদ্দিন ও নুরুজ্জামান মিঠুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এদিন পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপজেলা যুবশক্তি ও উপজেলা যুবদল।
প্রথমে দ্বীপ কলেজ গেইট থেকে মিছিল শুরু করে উপজেলা মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে যুবশক্তি। সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্যাহ নিরব এবং পৌরসভা এনসিপির আহ্বায়ক মহিব্বুর রহমান।
এদিকে একই সময়ে উপজেলা শহরের উত্তর দিক থেকে উপজেলা যুবদলের নেতৃত্বে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল এগিয়ে আসে। যুবদলের মিছিলটি উপজেলা মোড়ে যুবশক্তির সমাবেশস্থলের কাছে পৌঁছালে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, যুবদলের মিছিল থেকে কয়েকজন দৌড়ে এসে যুবশক্তির সমাবেশের ব্যানার টেনে নিয়ে যায়।
উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা বলেন,
“ঘটনার সময় আমি উপজেলা যুবদলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ইলিয়াছ ও ফাহিম উদ্দিনকে ডেকে বিষয়টি জানতে চাই। কিন্তু পরক্ষণেই তাদের মিছিলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি আমাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এতে ছাত্রশক্তির উপজেলা আহ্বায়ক নিরবের মাথায় ইটের আঘাত লাগে এবং তার মাথা ফেটে যায়। আমিও ইটপাটকেলে আহত হই।”
তিনি দাবি করেন, যুবদলের মিছিলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী উপস্থিত ছিল এবং তারাই হামলায় জড়িত।
অন্যদিকে উপজেলা যুবদলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ইলিয়াছ বলেন,
“ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে আমাদের মিছিল শহরের উত্তর দিক থেকে আসছিল। সৈকত হোটেলের সামনে পৌঁছালে কোনো এক ছাদের ওপর থেকে আমাদের মিছিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে পৌরসভা ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম দুখু, উপজেলা যুবদলের সদস্য সাখাওয়াত হোসেন হিরু ও শ্রমিকদল নেতা আশিক আহত হন। পরে উত্তেজিত সমর্থকেরা এনসিপির সমাবেশের দিকে যেতে চাইলে আমি তাদের থামানোর চেষ্টা করি এবং যুবশক্তির নেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। এসময় একটি গাছের ডাল এসে আমার গায়ে লাগে।”
তিনি ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন,
“সন্ধ্যায় উপজেলা শহরের মধ্যবর্তী স্থানে বিএনপি ও এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল মুখোমুখি হলে কিছু হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিএনপির মিছিলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ছিল—এমন অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
হাতিয়ার কথা