ঢাকা | বঙ্গাব্দ

হাতিয়া উপজেলা: জনসংখ্যা, শিক্ষা, কৃষি ও অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
হাতিয়া উপজেলা: জনসংখ্যা, শিক্ষা, কৃষি ও অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র ছবির ক্যাপশন: হাতিয়া উপজেলা
ad728

হাতিয়া উপজেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ জনপদ। এটি নোয়াখালী জেলা-এর অন্তর্গত। উত্তরে সুবর্ণচর, পূর্বে মেঘনা নদী, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে মনপুরা উপজেলা দ্বারা বেষ্টিত এই বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের আয়তন প্রায় ২১০০ বর্গ কিলোমিটার। জেলা সদর থেকে সড়ক পথে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এবং নদীপথে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী হাতিয়ার মোট জনসংখ্যা ৪,৫২,৪৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২,২৩,৮৫৩ জন এবং মহিলা ২,২৮,৬১০ জন। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ২১৬ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ২,১৮,০১৯ জন। বাৎসরিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ৩ শতাংশ।

প্রশাসনিক কাঠামোয় রয়েছে ১১টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা, ৬৭টি মৌজা ও ৭৪টি গ্রাম। নির্বাচনী এলাকা ২৭৩ নোয়াখালী-৬। উপজেলায় ৩৪টি হাট-বাজার, ৯টি ব্যাংক শাখা, ১৯টি পোস্ট অফিস এবং ১টি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় ১৩০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ৬০ কিলোমিটার অর্ধপাকা এবং ৬৮৭ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা রয়েছে। পাশাপাশি ৩৬৮টি ব্রিজ ও কালভার্ট যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রেখেছে।

ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোয় রয়েছে ৪৭১টি মসজিদ, ২৭টি মন্দির, ১টি সরকারি ও ৩টি বেসরকারি এতিমখানা।

কৃষি হাতিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি। মোট জমির পরিমাণ ৯৭,৮১৮ হেক্টর, যার মধ্যে নীট ফসলি জমি ৬০,৫০০ হেক্টর। তিন ফসলি জমির পরিমাণ ৩৫,০০০ হেক্টর। বাৎসরিক খাদ্য চাহিদা ৮৮,২১৩ মেট্রিক টন। সেচ সুবিধায় রয়েছে ১২৩টি গভীর নলকূপ, ২,৪২৩টি অগভীর নলকূপ ও ৪৮৮টি শক্তিচালিত পাম্প।

শিক্ষা খাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১০৫টি ও নব সরকারি ১১১টি। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৯টি। উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে ৩৩টি এবং কলেজ রয়েছে ৫টি। শিক্ষার হার প্রায় ৬৯ শতাংশ।

স্বাস্থ্য খাতে ১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৬টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। মোট বেড সংখ্যা ৫০টি। মঞ্জুরিকৃত ২২টি ডাক্তার পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৬ জন।

মৎস্য খাতে ১১,৪৫২টি পুকুর রয়েছে এবং বাৎসরিক উৎপাদন ১৫,২৯৮ মেট্রিক টন, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বেশি। প্রাণিসম্পদ খাতে রয়েছে পশু চিকিৎসা কেন্দ্র, গবাদি পশু ও মুরগির খামার।

ক্ষুদ্র কুটির শিল্প যেমন ওয়েল্ডিং, পাটি, নকশি কাঁথা, বেত শিল্প ও কাঠের ফার্নিচার তৈরি উল্লেখযোগ্য। বৃহৎ শিল্প হিসেবে ট্রলার ও গাড়ির বডি নির্মাণ শিল্প বিশেষ পরিচিত।

সমবায় খাতে কৃষক, মৎস্যজীবী, যুব ও মহিলা সমবায়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে দুই শতাধিক সমিতি সক্রিয় রয়েছে।

দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, কৃষি সম্ভাবনা ও শিল্প কার্যক্রমে সমৃদ্ধ একটি জনপদ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ অঞ্চল ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : হাতিয়ার কথা

কমেন্ট বক্স