হাতিয়া প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের নলেরচরে গৃহবধূ তাজনাহার বেগম ওরফে তান্না বেগম হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বামী মিলন উদ্দিন ওরফে ‘চোরা মিলন’ এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা আক্তার লাইজুকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম শহর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মার্চ ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টার মধ্যে হাতিয়া থানাধীন মোরশেদ বাজার তদন্ত কেন্দ্রের আওতাধীন চানন্দী ইউনিয়নের আল-আমিন গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী মিলন উদ্দিন (৩৬), পিতা হোসেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা আক্তার লাইজুর প্ররোচনায় স্ত্রী তাজনাহার বেগম (৩২)-কে নির্মমভাবে মারধর করে।
অভিযোগ রয়েছে, স্টিলের লাঠি দিয়ে মাথা, মুখ, ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হলে গুরুতর আহত হয়ে তাজনাহার বেগম ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে স্থানীয় আবু সাঈদ বাজারের এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পথে সকাল প্রায় ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই আসামি মিলন উদ্দিন তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা আক্তার লাইজুকে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হাতিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলা রুজুর পরপরই তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হলে র্যাব-১১ এর সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ১৪ মার্চ বিকেলে চট্টগ্রাম শহর এলাকা থেকে প্রধান আসামি মিলন উদ্দিন ও তার সহযোগী শাহেদা আক্তার লাইজুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তীতে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিলন উদ্দিন এলাকায় ‘চোরা মিলন’ নামে পরিচিত এবং একাধিক বিয়ের কারণে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি এলাকার এক স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে বিয়ে করেন। এ বিষয় নিয়ে তার স্ত্রী তাজনাহার বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
নিহত তাজনাহার বেগম তমরদ্দি ইউনিয়নের ক্ষিরোদিয়া গ্রামের ‘গাড়িওয়ালাগো বাড়ি’র আব্দুল জলিলের মেয়ে এবং তিন সন্তানের জননী।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
হাতিয়ার কথা