নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজনৈতিক সমাবেশের কারণেই পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থীর উদ্যোগে কলেজ মাঠে বিএনপির একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
জানা যায়, হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ও দ্বাদশ শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন কলেজ মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে তা ২৭ জানুয়ারিতে পুনর্নির্ধারণ করে।
২৬ জানুয়ারি একাদশ শ্রেণিতে পৌরনীতি ও সুশাসন, ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা এবং জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে একই বিষয়গুলোর দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায় শিক্ষা শাখার প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, “২৫ তারিখে আমাদের পরীক্ষা হওয়ার কথা জানানো হলেও হঠাৎ করে আধা ঘণ্টা পর এক শিক্ষক এসে জানান, রাজনৈতিক কারণে ২৬ তারিখের পরীক্ষা ২৭ তারিখে নেওয়া হবে।”
এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাজনীতি যদি জনগণের কল্যাণের জন্য হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনকে বাধাগ্রস্ত করা কেন? কলেজ মাঠের পরিবর্তে অন্য কোথাও সমাবেশ করা যেত। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারুক।”
এ বিষয়ে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল আলম জানান, একটি পরীক্ষা পরিবর্তন করা হয়েছে, তবে কী কারণে পরিবর্তন করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ফয়সাল বিন দিদার বলেন, “জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমোদন থাকায় আমাদের পরীক্ষা পিছিয়ে নিতে হয়েছে। সমাবেশ চলাকালে পরীক্ষা নেওয়া বাস্তবসম্মত ছিল না।”
অন্যদিকে, সমাবেশের অনুমোদন ও পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে নোয়াখালী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সমাবেশের অনুমোদন বা পরীক্ষা বাতিল সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার জানা নেই।
এদিকে, আগামী ২৭ জানুয়ারি সকাল ১০টায় একই কলেজ মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আরেকটি সমাবেশের শিডিউল রয়েছে। এনসিপির এক নেতা অভিযোগ করে বলেন, “কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের পূর্বনির্ধারিত শিডিউলের কথা জানার পরও ২৬ তারিখের পরীক্ষা পিছিয়ে ২৭ তারিখে নিয়েছে।”
পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। একই স্থানে রাজনৈতিক সমাবেশ ও পরীক্ষা চললে শিক্ষার্থীদের পক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মত তাদের।
হাতিয়ার কথা