প্রিন্ট এর তারিখঃ ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
ভোটের বছরে পূজামণ্ডপে আনাগোনা, ভোটের বাইরে নীরব হাতিয়ার রাজনৈতিক নেতারা

নির্বাচনের
আগে দুর্গাপূজার মণ্ডপে ছিল রাজনৈতিক নেতাদের সরব উপস্থিতি। মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেছেন, পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন, দিয়েছেন সম্প্রীতির বার্তা। কেউ কেউ আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর বদলে গেছে
সেই চিত্র। চলতি বছরের দুর্গাপূজায় হাতিয়ার পূজামণ্ডপগুলোতে গত বছরের মতো
রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের প্রশ্ন, ভোটের আগে যাঁরা পূজামণ্ডপে ছুটে এসেছিলেন, ভোট শেষ হওয়ার পর তাঁদের আর
দেখা যাচ্ছে না কেন?
নোয়াখালীর দ্বীপ
উপজেলা হাতিয়ায় প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে থাকে উৎসবের আমেজ। গত বছর নির্বাচনকে
সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পূজারীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি বজায়
রাখার আশ্বাস দেন। সেই সময় মণ্ডপে নেতাদের উপস্থিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময়
ছিল বেশ আলোচিত।
তবে এবার
ভোটের পর সেই চিত্র
অনেকটাই ভিন্ন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষ্য, গত বছর যেসব
নেতাকে মণ্ডপে মণ্ডপে দেখা গেছে, এবার তাঁদের কাউকেই আগের মতো দেখা যায়নি। নির্বাচন সামনে থাকলে ধর্মীয় উৎসবেও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি বাড়ে, কিন্তু ভোট শেষ হলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেই যোগাযোগ আর থাকে না
এমন অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন
শুধু নির্বাচনী জনসংযোগের অংশ হওয়া উচিত নয়। ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেওয়া, শুভেচ্ছা জানানো এবং সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা, জমিজমা-সংক্রান্ত সমস্যা ও নাগরিক অধিকার
নিয়ে সারা বছর রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
ভোটের আগে
দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর কী হলো? পূজামণ্ডপে
গিয়ে যাঁরা মানুষের পাশে থাকার কথা বলেছিলেন, তাঁরা এখন কোথায়? ধর্মীয় উৎসব কি কেবল ভোটের
সময় জনসংযোগের উপলক্ষ, নাকি এটি সব নাগরিকের সঙ্গে
রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিয়মিত সম্পর্কের অংশ?
রাজনৈতিক নেতাদের
দায়িত্ব শুধু নির্বাচনের সময় ভোটারদের কাছে যাওয়া নয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপত্তা,
অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত
করতে তাঁদের সারা বছর কাজ করা উচিত। পূজার সময় মণ্ডপে উপস্থিতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি উৎসবের বাইরেও মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
হাতিয়ার স্থানীয়
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক নেতারা যেন শুধু ভোটের হিসাব করে তাঁদের কাছে না যান। উৎসবের
আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি সারা বছর তাঁদের খোঁজখবর রাখেন এবং এলাকার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখেন। কারণ সম্প্রীতি কেবল বক্তব্যে নয়, মানুষের পাশে থাকার মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Hatiyar Kotha