
শিক্ষাকথা ডেস্ক:
বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসেল ইকবাল। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুখচর মফিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে আয়োজিত এক অভিভাবক সমাবেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মতির পর এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও রাসেল ইকবাল বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখা যায় কি না, সে বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামত জানতে চান। এ সময় সমাবেশে উপস্থিত সবাই হাত তুলে সম্মতি জানান।
এরপর তিনি ঘোষণা দেন, আজ থেকে সুখচর মফিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু শাহাদাত মো. মোকাররম বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএনও রাসেল ইকবাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন এবং বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য ও আমেরিকা প্রবাসী কামরুল ইসলাম নূর।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএসএম মুজাহিদুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ফাহিম উদ্দিন, শিক্ষক কামরুজ্জামান এবং হাতিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম ইব্রাহিম।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মোবাইল ফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা ‘নতুন কুঁড়ি’, প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং নজরুল বর্ষ উদযাপনের মতো উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা গেলে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে তাদের দূরে রাখা সহজ হবে।
এদিকে সমাবেশে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাসও দেন ইউএনও রাসেল ইকবাল। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে বিদ্যালয়ের সিলিংয়ের কাজের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে মাঠ ভরাট ও প্রশস্তকরণ, যাত্রীছাউনি এবং প্রধান সড়কে ফুটপাত নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ভবন পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হবে।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।