
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম রাজুর একটি ফেসবুক পোস্ট এবং তা নিয়ে হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদের পাল্টা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি নজরুল ইসলাম রাজুর পিতার ইন্তেকালের পর দাফন সম্পন্ন হয়। পরে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, "বাবার কবরের মাটি টুকু পর্যন্ত দিতে দিল না তারা।" পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে রাজুর এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ। তিনি রাজুর ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা তুলে ধরেন।
রিয়াজ মাহমুদ তার মন্তব্যে বলেন, রাজু জানাজায় উপস্থিত ছিলেন এবং বাবার কবরে মাটিও দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জানাজার পর কফিন কবরে নেওয়ার সময় একজন পুলিশ সদস্যকে দেখে উপস্থিত কয়েকজন রাজুকে সাময়িকভাবে সরে যেতে বলেছিলেন। পরে প্রায় পাঁচ মিনিট পর তিনি আবার ফিরে এসে অন্যদের সঙ্গে কবরের মাটি দেন এবং দাফন কার্যক্রম শেষে চলে যান।
রিয়াজ আরও দাবি করেন, এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে অপপ্রচার বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো দুঃখজনক। তিনি বলেন, ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে স্থানীয় পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি মালেক মিয়ার কাছ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জানাজা ও দাফনের মতো ধর্মীয় এবং সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকা উচিত।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম রাজুর ফেসবুক পোস্ট ও রিয়াজ মাহমুদের মন্তব্য ছাড়া স্বাধীনভাবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই উভয় পক্ষের বক্তব্যই তাদের নিজ নিজ দাবি হিসেবে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।