
হাতিয়ার কথা ডেস্ক:
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া উপজেলা-এ নির্মাণাধীন উপজেলা পরিষদ ভবনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ছাইফুল ইসলাম (১৬) নামে এক কিশোর শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ছাইফুল ইসলাম হাতিয়া পৌরসভা-এর ৪নং ওয়ার্ডের বেজুগালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং রিকশাচালক আকবর হোসেনের একমাত্র সন্তান। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অল্প বয়সেই তাকে শ্রমজীবী জীবনে নামতে হয়।
স্থানীয় সূত্র ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে সাব-কন্ট্রাক্টরের নির্দেশে ছাইফুল গ্রাইন্ডিং মেশিনের বৈদ্যুতিক ক্যাবল গুছানোর কাজ করছিল। এসময় হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সে ছাদের ওপর লুটিয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল-এ রেফার করেন। পরে সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের দাদা মোবাশ্বর আহমদ জানান, “সংসারের হাল ধরতেই ছোট বয়সে কাজে নামতে হয়েছিল ছাইফুলকে। সে ছিল তার বাবার একমাত্র ভরসা।”
নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম.আলী কর্পেোরেশনের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মাকলুব জানান, উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণকাজে নিহত শ্রমিকের বয়স বা বৈদ্যুতিক তারের নিরাপত্তা সমস্যা ছিল কিনা তা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে সাব কন্ট্রাক্টর আকবর জানে। তবে আকবরের সাথে যোগাযোগ করা হলে সে শ্রমিকের বয়স ১৫-১৬ বছর বলে স্বীকার করলেও বৈদ্যুতিক তারে লিকেজ থাকার বিষয় অস্বীকার করে।
ঘটনার বিষয়ে হাতিয়া থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “মরদেহ নোয়াখালী সদর থেকে আনার পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী এমদাদুল ইসলাম জানান, “ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকের বয়স, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হন। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।