
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা গেছে, প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে ও গোপনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, দিনে যেমন—তেমনি গভীর রাতেও তাকে ওই প্রার্থীর বাসায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
এসব যাতায়াত ও বৈঠকের কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহলের মতে, এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তা সরাসরি গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও নিরপেক্ষতার নীতি বিসর্জন দিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে নির্বাচনকালীন পরিবেশ প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভোটার ও সংশ্লিষ্ট মহল।
এছাড়া হাতিয়ায় যোগদানের পর থেকেই সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও শ্রেণি নিয়ে প্রকাশ্যে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে ‘জুলাই যোদ্ধা’দের প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘চিলড্রেন পার্টি’ বা ‘শিশু পার্টি’ উল্লেখ করে মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তন আন্দোলনের সময় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পরীক্ষা না নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষকদের উৎসাহিত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্পষ্ট শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দায়িত্বহীনতার শামিল।
প্রিজাইডিং অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্বে থেকেও একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, নিয়মিত যাতায়াত ও গোপন বৈঠকের অভিযোগ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয় ভোটার, শিক্ষক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
আমার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এর সাথে ঐ নেতার বন্ধুত্ব রয়েছে। এই সুবাদে আত্মীয়ের
অনুরোধে আমি তার সাথে দেখা করতে যাই। এছাড়া গণভোট বিষয়ে বর্তমানে নির্বাচন কমিশন
থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রচারণা নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় আমি হ্যাঁ বা না কোন দিকেই
কথা বলছিনা।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী-৬
(হাতিয়া) আসনে নিযুক্ত সহকারী রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ
আলাউদ্দিন ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।